HIJRI CALENDAR :
Explore the commencement of the Hijri calendar, its historical context, and its vital role in Islamic traditions and daily life across diverse communities. Hu
হিজরী সন।(Hijri calendar).
ঘটনার স্মৃতিকে স্মরণ রাখার মানসিকতা থেকে, তারিখ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তার অনুভব থেকে, দিন, মাস, বছর বর্ণনার তাগিদ থেকে মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন হতেই বর্ষ গণনার উদ্ভব ঘটেছে।
আর এই গণনার পথপরিক্রমায় মানুষ চাঁদের গতি হিসাব করেছে।
যার থেকে জন্ম হয়েছে চান্দ্র বর্ষের। আবার সূর্যের গতির পথ ধরে সৌরসনের জন্ম হয়েছে।
এ সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে 'তিনিই সূর্যকে তেজস্কর ও চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার মন্যিল নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে তোমরা বছর গণনা ও সময়ের হিসাব জানতে পার। অর এটি আল্লাহ নিরর্থক করেননি। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি এ সমস্ত নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করেন।' (সূরা ইউনুস, আয়াত ৫) ত হিজরী সনের সম্পর্ক চাঁদের সঙ্গে থাকার কারণে এই সনের তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক।
এই চাঁদের হিসাবে মুসলমানদের অনেক ইবাদত-বন্দেগী, আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে। যেমন- হিজরী সনের প্রথম মাস 'মুহাররম'।
এই মাসের ১০ তারিখে পবিত্র 'আশুরা'। তৃতীয় মাস রবিউল আউয়ালে মহানবী সা.-এর জন্ম ও ওফাত হয়েছে।
সপ্তম মাস শাবান।
এই মাসের ১৫ তারিখের রাতে রয়েছে মহিমান্বিত শবে বরাত। নবম মাস রমযান।
এই মাসের ৩০ দিন রোযা রাখা প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরয এবং এই মাসেই রয়েছে পবিত্র ও মহান রজনী শবে কদর। দশম মাস শাওয়ালের ১ম তারিখে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর।
দ্বাদশ মাস তথা শেষ মাস যিলহজ। এই মাসের ৮ তারিখ থেকে ১৩ তারিখের মধ্যে পবিত্র হজ এবং ১০ তারিখে পবিত্র ঈদ-উল-আহযা তথা কুরবানির ঈদ।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যায়, প্রাচীন আরবে সুনির্দিষ্ট কোনও সন প্রথা প্রচলিত ছিল না।
মুসলিমরা বিশেষ ঘটনার নামে বছরগুলোর নামকরণ করতেন।
যেমন বিদায়ের বছর, অনুমতির বছর ইত্যাদি।
অমুসলিমদের অবস্থাও ছিল একই। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর নবুওয়াতের সময় তারা 'হস্তির বছর' নামে বছর গণনা করত।
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক রা. যখন খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন বহু দূর-দূরান্ত পর্যন্ত নতুন নতুন রাষ্ট্র-ভূখণ্ড ইসলামী খেলাফতের অন্তর্ভুক্ত হয়। এ ই সকল রাষ্ট্রে প্রশাসনকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
এছাড়া রাষ্ট্রের জরুরি কাগজপত্র ইত্যাদিতেও কোন সন তারিখ উল্লেখ না থাকায় অনেক বেগ পেতে হয়। ঐতিহাসিক আল বিরুণী কর্তৃক বিধৃত একটি বিবরণী থেকে যানা যায় যে, বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু মুসা আশআরী রা: একটি পত্রে হযরত উমার রা:-এর কাছে অভিযোগ করেন যে, আপনি আমাদের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছেন, কিন্তু সেগুলোতে কোনও সন তারিখের উল্লেখ নেই, যার কারণে আমাদের অনেক অসুবিধা হয়।
অতঃপর বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে খলিফা হযরত উমার রা:একটি সন চালুর ব্যাপারে সচেষ্ট হন।
প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, সুসাহিত্যিক আল্লামা শিবলী নোমানী হিজরী সনের প্রচলন ও জন্মকাল সম্পর্কে তাঁর সুপ্রসিদ্ধ উর্দুগ্রন্থ 'ওমর ফারুক'-এ যে আলোচনা করেছেন, তা অত্যন্ত তথ্যবহুল।
আল্লামা শিবলী রহ. উল্লেখ করেন যে, হযরত উমর রা.-এর শাসনামালেই ১৬ হিজরী সনে খলিফা হযরত উমার রা.-এর কাছে একটি দাপ্তরিক পত্রের খসড়া পেশ করা হয়। পত্রটিতে শাবান মাসের উল্লেখ ছিল। এটি কোনও সনের উল্লেখ বা ইঙ্গীত বহন করছিল না।
তীক্ষ্ণ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হযরত উমার ফারুক রা:
জিজ্ঞেস করেন যে, পরবর্তী কোনও সময়ে তা কিভাবে বোঝা যাবে যে, সেটি কোন সনে তার সামনে পেশ করা হয়েছিল?
কোনও সদুত্তর না পেয়ে খলিফা হযরত উমার রা: সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য শীর্ষ পর্যায়ের জ্ঞানী-গুণী মুসলমানদেরকে নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেন। আলোচনাকালে অধিকাংশ ব্যক্তিই অভিমত প্রকাশ করেন যে, সন গণনার ক্ষেত্রে পারসিকদের পদ্ধতি গ্রহণ করাই শ্রেয়।
খোজিস্থানের বাদশাহ হরমুজান (যিনি তখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মদীনায় বসবাস করছিলেন) প্রস্তাব রাখেন যে, তার দেশে প্রচলিত মাহরুজ প্রথাই সন গণনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করা উচিত। কারণ, মাহরুজ পদ্ধতিতে তারিখ ও মাস সুষ্ঠুভাবে প্রতিফলিত হয়ে থাকে।
কেউ কেউ মত প্রকাশ করেন যে, মহানবী (সা:)-এর ঐতিহাসিক হিজরতের দিন থেকে ইসলামী সন গণনার শুভ-সূচনা করাই শ্রেয়।
এঁদের মধ্যে হযরত আলী রা: ছিলেন অগ্রগণ্য।
কারণ ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত এই মহান দিবসেই ইসলামের ইতিহাসে এক নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়।
মহান রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে সম্পাদিত অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত হিজরতকে ইসলামী বর্ষপঞ্জির জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী বিবেচনা করে হযরত আলী রা.-এর প্রস্তাবই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
এই প্রেক্ষিতে খলিফা হযরত উমার ফারুক রা. হিজরতের বছর থেকেই ইসলামী দিনপঞ্জি গণনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জামাদিউল আউয়াল, ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে। আলোচনা সভায় তৎকালে আরবে অনুসৃত প্রথানুযায়ী পবিত্র মুহাররম্ মাস থেকে ইসলামী বর্ষ শুরু (হিজরী সনের শুরু) করার ও যিলহজ 'মাসকে সর্বশেষ মাস হিসেবে চিহ্নিত করার পরামর্শ দান করেন হযরত উসমান গণী রা:।
👉About the Author
Written by MD Nurul Alam, a writer interested in self-reflection, psychology, and spiritual growth. He explores how inner awareness and mindful practices can improve mental well-being and daily life.This blog focuses on self-reflection, prayer, and psychological well-being,
and tech, education.
